বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল থাকলে বহিষ্কার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল থাকলে বহিষ্কার
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল থাকলে বহিষ্কার |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরো জানানো হয়, মোবাইল নিয়ে স্কুল গেটের ভেতরে ঢোকা যাবে না। যদি কারো কাছে স্কুল চলাকালীন সময়ে মোবাইল পাওয়া যায় তাহলে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সবাইকে সতর্ক হয়ে যাওয়ার জন্যও বলা হয়।

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে, ভালো ফলাফল করতে, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে এবং ভবিষ্যতে তারা যেন দেশ ও দশের উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে—সেই উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানু।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি এই ঘোষণা দেন।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকগণ ও সচেতন মহল।

সচেতন মহল বলছেন, ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না; মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে কেউ আসলো কি না, তা প্রতিদিন যাচাই-বাছাই করতে হবে। আর নিয়ে আসলে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণকেও গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম, অভিভাবক সদস্য আজিজুল ইসলামসহ শিক্ষকগণ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, ‘মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের সময়ে মোবাইল কেনার সাহস করতে পারি নি, আর এখন মোবাইল ছাড়া চলেই না মনে হয় ছেলে-মেয়েদের।’

বিকাশ রঞ্জন তালুকদার জানান, ‘শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি বাস্তবতার নিরিখে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। এখন দেখার বিষয় সিদ্ধান্তটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।’

শিক্ষার্থীর অভিভাবক জামাল মিয়া জানান, ‘লেখাপড়া বাদ দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে কারণে লেখাপড়াও ঠিকমতো করে না। স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে, ভালো হয়েছে। অন্তত স্কুল চলাকালীন সময়ে লেখাপড়াটা সঠিকভাবে হবে।’

অভিভাবক সদস্য আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আজকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা শুধু শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই নয়; তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে সুনাম ও সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাবে—তার জন্যই এই উদ্যোগ।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল কালাম জানান, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান, তাদের ভালো-মন্দ আমাদেরই চিন্তা করতে হবে। মোবাইল ফোনের আসক্তি দিন দিন বাড়ছে, সেজন্য শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে ফেরাতে স্কুল চলাকালীন সময়ে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়িয়ে ভালো ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সুন্দর করার উদ্দেশ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মান ও পরিবেশ আরো সময়োপযোগী করে ভালো ফলাফল করতে কাজ করা হবে।’