ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার (১৩ জুন) তাকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার একটি এলাকায় দোকানে যাওয়ার পথে ওই কিশোরীকে জাকারিয়া নামে স্থানীয় এক যুবক জোর করে তাকে একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আরো কয়েকজনের সহযোগিতায় তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কিশোরীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে সঙ্ঘবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতন করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু সময় পর তার জ্ঞান ফিরলে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়। পরে ওই কিশোরী বাড়িতে ফিরে তার মাকে পুরো বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে জাকারিয়া নামে এক যুবক একটি সাদা রঙের ভবনে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তাকে আমি আগে এই এলাকায় দেখেছি এবং তার নামও জানতাম।’
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে শনিবার রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তার অভিভাবকের সাথে কথা বলেছি। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।’



