লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর এলাকার সোহেল ফকিরের পরিবারের সদস্যদের মাঝে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের মেহেন্দিগঞ্জের নিজ বাসভবনে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে সোহেলের মা ও শাশুড়ির হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেয়া হয়।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিহত সোহেলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লঞ্চের মালিকপক্ষের কাছ থেকেও সোহেলের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে সরকার। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।’
সোহেলের শাশুড়ি সালমা বেগম জানান, শনিবার সকালে প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে ডেকে তাদের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। এছাড়া লঞ্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের আগে ঢাকার সদরঘাটে সঙ্ঘটিত আলোচিত লঞ্চ দুর্ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান সোহেল ফকির (২২)। একই ঘটনায় নিহত হন সোহেলের বাবা মিরাজ ফকির (৫০)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা ইসলাম।
সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় তিন মাস পর পরিবারে আসে নতুন অতিথি। গত ৯ জুন সকালে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে রুবা ইসলাম একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।
রুবার মা সালমা বেগম জানান, সোহেলের ইচ্ছা অনুযায়ী নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে রাইহান ইসলাম।
নবজাতকের আগমনে পরিবারে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হলেও শোকের ছায়া এখনো কাটেনি। কারণ সন্তানের জন্মের আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তার বাবা। যে সন্তানকে ঘিরে সোহেল ও রুবা ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেই সন্তান আজ বাবার স্নেহবঞ্চিত অবস্থায় জীবন শুরু করেছে।



