ট্রলারযোগে আসে ডাকাতদল

মতলব উত্তরে লেয়ার মুরগির ফার্মে ডাকাতি, ভাঙচুর ও লুট

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Chandpur
ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে ওই ফার্মের এক কর্মী মাথায় জখমের শিকার হন
ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে ওই ফার্মের এক কর্মী মাথায় জখমের শিকার হন |নয়া দিগন্ত

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ধনাগোদা নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত মেসার্স মোহাম্মদীয়া লেয়ার ফার্ম নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের নয়া কান্দি গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ট্রলারে করে এসে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফার্মে প্রবেশ করে স্টাফদের মারধর, অফিস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ফার্ম কর্তৃপক্ষ।

ফার্মের স্টাফ জিলানী জানান, রাত ৩টার দিকে ডাকাত দল ফার্মে এসে প্রথমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে স্টাফদের জিম্মি করা হয়। পরে একজন স্টাফকে শর্টগান দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ফার্মে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় তারা। ডাকাতরা যাওয়ার আগে তাদেরকে ১০ মিনিটের মধ্যে ফার্ম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

ফার্মের মালিক মো: রাসেল দেওয়ান বলেন, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে নদীপথে ট্রলারযোগে একদল ডাকাত ফার্মে হামলা করে। তারা স্টাফদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে মারধর করে। পরে অফিস কক্ষে ঢুকে ম্যানেজার ও স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অফিসের ক্যাশ থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং তার মানিব্যাগে থাকা আট হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি জানান, ‘ডাকাতরা তার এক স্টাফকে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীদের সবার কাছেই পাইপগানের মতো শর্টগান জাতীয় অস্ত্র ছিল। যাওয়ার সময় তারা স্টাফদের হুমকি দিয়ে বলে, তারা যেন ফার্মে কাজ না করে চলে যায় এবং মালিককে বলে ব্যবসা বন্ধ করতে বলে। হামলাকারীরা ফার্মের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভাইস ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি ফার্মের স্টাফদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় ‘

রাসেল বলেন, ‘এখন এখানে ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে গেছে। আমার স্টাফদের অস্ত্রের মুখে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা এখানে থাকলে পরে এসে তাদের মেরে ফেলা হবে। এ ঘটনায় আমি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও মতলব উত্তর থানার পুলিশের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।’

ডাকাতির ঘটনার বিষয়ে জানতে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবির হুসনাইন সানীব বলেন, বিষয়টি মতলব উত্তর থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য তাকে থানায় নেয়া হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।