ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ শাহ আলমের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা কবরস্থানে শহীদ শাহ আলমের কবর জিয়ারত শেষে তার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, আশুগঞ্জ উপজেলা আমির মো: শাহজাহান ভূঁইয়া, সহকারী সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।
এ সময় শহীদ শাহ আলমের পরিবার তার শহীদের স্বীকৃতি এবং মৃত্যুর ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি তার সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আবেদন করেন।
আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো: শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদ শাহ আলমের পরিবারের বিষয়টি জামায়াত নেতৃবৃন্দের নজরে আসার পর তাদের খোঁজখবর নিতে আসা হয়েছে। সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে আপাতত কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।’
উল্লেখ্য, শহীদ শাহ আলম আশুগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়তল্লা গ্রামের বসু মিয়ার ছেলে। তিনি আশুগঞ্জ বাজারে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে গুলি অপসারণ করা সম্ভব হলেও মাথায় থাকা গুলি অপসারণ করা যায়নি। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর মাথায় গুরুতর জটিলতার কারণে তিনি মারা যান। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা ছিলেন।
এদিকে, একই দিন আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় শহীদ শাহ আলমের বাবা বসু মিয়া বক্তব্য দেন। তিনি আন্দোলনে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া ও আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম চৌধুরী তাকে আইনগত প্রতিকার পেতে মামলা করার পরামর্শ দেন।



