কাউখালীতে ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

সমকক্ষ পদের হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কোনো নির্দেশনা মানছেন না অন্য সহকারী শিক্ষকরা। এতে করে প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

Location :

Pirojpur
কাউখালীর একটি স্কুল
কাউখালীর একটি স্কুল |নয়া দিগন্ত

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৪৪টি বিদ্যালয়ই চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সমকক্ষ পদের হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কোনো নির্দেশনা মানছেন না অন্য সহকারী শিক্ষকরা। এতে করে প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে কোন্দল ও গ্রুপিং। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অতিরিক্ত উপস্থিতি দেখা গেলেও অন্যগুলোতে তীব্র শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। সরকারি সময়সূচি না মেনে মনগড়া মতে বিদ্যালয় পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

অভিভাবকদের দাবি, শ্রেণি কার্যক্রমে মন না দিয়ে অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে রিডিংও পড়তে পারছে না এবং প্রত্যাশিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার মান ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নূরানী মাদরাসায় ভর্তি করাচ্ছেন।

কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক একই পদের হওয়ায় অনেক শিক্ষক ভারপ্রাপ্তদের নির্দেশ গুরুত্ব দিতে চান না। তবে আমরা নিয়মিত রুটিনমাফিক তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষার মান দ্রুত উন্নত হবে।’

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা মো: বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সমস্যাটি সম্পর্কে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে অবগত আছি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আশা করি খুব দ্রুতই সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ সংক্রান্ত সঙ্কট কেটে যাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।’