জন্ম থেকেই ছেলে প্রতিবদ্ধী, তাই তার কষ্টের কথা ভেবে নিজেই প্রতিবদ্ধী স্কুল খুলছেনে নাজনীন। ছেলে প্রতিবদ্ধী হওয়ায় জীবনের কঠিন সময় পার করতে হয় তাকে, তারপরেও বসেছিলেন না। ছেলের করুণ অবস্থা ও তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নাজনীন প্রতিবন্ধীদের জন্য নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী স্কুল।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার মাটিয়া ব্রিজ বাজারে ভাড়ায় দোকান ঘর নিয়ে স্কুলের কাজ শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য নিয়ে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বই বিতরণ, হুইল চেয়ার বিতরণসহ স্কুলটিতে প্রতিবদ্ধী শিশু ও বয়স্ক মানুষকে থেরাপি দিয়ে আসছেন।
বর্তমানে ১৩২ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বিনা পারিশ্রমিকে পাঁচজন শিক্ষক লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের নানারকম কাজ শেখানো পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরেছেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানায়, লোহাইড় গ্রামের মরহুম আতিয়ার রহমানের স্ত্রী নাজনীন, তার ছেলে নাবিল জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। জন্মের পর থেকে ছেলেকে বিভিন্ন জায়গা ভর্তি করানোর জন্য চেষ্টা করেন তিনি। কোনো ভালো ফলাফল না পাওয়ায় স্বামীর সহযোগিতায় ক্ষুদ্র আকারে শুরু করেছিলেন স্কুলের পরিচালনার কাজ। পরে আস্তে আস্তে রূপ নেয় বিদ্যালয়ে, এরপর সেখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষকরা খেলাধুলায় উৎসাহ দেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টি নিজ অর্থায়নে ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতায় কোনো রকম চলছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে পরিপূর্ণভাবে কার্যক্রম চালানো যাবে।
নাজনীন জানান, তিনি মূলত প্রথমে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সেই সংস্থার মাধ্যমে স্কুল শুরু করেন। তার ছেলের মতো যারা প্রতিবন্ধী আছে তাদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেন। সকলের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি ভালো জায়গা পৌঁছাবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমিসহ বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষক ও এক কর্মচারী আছে। সবাই বিনা পারিশ্রমিকে স্কুলটিতে শিক্ষা দিয়ে আসছে। নিজেদের নয়, প্রতিবন্ধীদের কথা ভেবে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পাঠদান করে আসছি।’
মহারজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সালাউদ্দিন মিয়া জানান, বিধবা নাজনীন যে কাজ করেছেন তা বিত্তবানরা করতে পারেনি। তার উদারতা ও মহান কাজের জন্য সমাজের বিত্তবানরা ও সরকারের সাহায্য কামনা করি।
মুকসুদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠাটির ভবিষ্যতে যাহাতে এগিয়ে যেতে পারে সমাজ সেবা অফিস সার্বিক সহযোগিতা করবেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুল করেছেন আমাদের জানা আছে। আমার উপজেলা প্রশাসন তাকে প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি হুইল চেয়ার দিয়েছে। এছাড়া স্কুলটি যাতে এগিয়ে যেতে পারে তার ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসন থেকে করা হবে।’



