মিরসরাই ট্র্যাজেডির দেড় দশক, শোক আর শ্রদ্ধায় নিহতদের স্মরণ

আমার ছেলে তখন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে প্রতিদিনের মতো ক্লাস করার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। পরে খেলা দেখার জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে মিরসরাই স্টেডিয়ামে যায়। ফেরার পথে পিকআপ উল্টে ডোবায় পড়ে ঘটনাস্থলে আমার ছেলে মারা যায়।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত স্কুলশিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে
মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত স্কুলশিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে শোকসভা, দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম, স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

নিহতদের স্মরণে নির্মিত দু’টি স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমীরন বড়ুয়ার উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবচার উদ্দিন, আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক মেশকাত হোসেন চৌধুরী, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলাউদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন, নিহত শিক্ষার্থী এমরান হোসেন ইমনের বাবা আবুল কাশেম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মায়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব মুসা মিয়া, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফারুক, উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিনসহ মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শোকসভা শেষে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

শোকসভায় আসা মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত এমরান হোসেন ইমনের বাবা আবুল কাশেম বলেন, আমার ছেলে তখন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে প্রতিদিনের মতো ক্লাস করার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। পরে খেলা দেখার জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে মিরসরাই স্টেডিয়ামে যায়। ফেরার পথে পিকআপ উল্টে ডোবায় পড়ে ঘটনাস্থলে আমার ছেলে মারা যায়।

ওই সময় সরকার থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেয়ার ঘোষণা দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এমন মৃত্যুতে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিলেও মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সরকারিভাবে কোনো কিছু করা হয়নি। আমরা চাই বর্তমান সরকার মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।

এ সময় আবুল কাশেমের বক্তব্যের প্রতি সহমত পোষণ করেন শোকসভায় আসা নিহত রাজীব হোসেনের বাবা আনোয়ার হোসেন, সজল চন্দ্র দাশের ভাই দীপ চন্দ্র দাশ, লিটন দাশের বড় ভাই শ্যামল চন্দ্র দাশ, আমিন শরীফের মা হোসনে আরা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পিকআপ বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় সড়কের পাশের একটি ডোবায় উল্টে যায়। এতে ৪৩ জন স্কুলছাত্রসহ ৪৫ জন নিহত হয়। এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন নিহতদের স্বজনরা। এখনো যাওয়া-আসার পথে দুর্ঘটনাস্থলে থমকে দাঁড়ায় পথিক।