রুহিয়ায় ৭৭টি বিদ্যালয়ের ৪১টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, রুহিয়ার ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২০টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

Location :

Thakurgaon
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় |নয়া দিগন্ত

রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এবং ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ পড়ছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, রুহিয়ার ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২০টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে চালানো হচ্ছে ১৬টি স্কুল। ঐতিহ্যবাহী ১ নম্বর রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলকলি, জামাদারপাড়া, বেকামনী এবং এফ কুজিশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বাকি ৪১টি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদেরই সামলাতে হচ্ছে নিত্যদিনের দাফতারিক কাজ, সরকারি ফাইলপত্র ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে এবং নিয়মিত পাঠদানে ছন্দপতন ঘটছে।

ঐতিহ্যবাহী ১ নম্বর রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন সহকারী শিক্ষক।

সেখানে ২০২২ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি স্কুলের পুরো প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাদানে ব্যাঘাত ঘটছে আমার। কাজের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে দ্রুত একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া অত্যন্ত জরুরি।’

বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক প্রশাসনিক অভিভাবক না থাকায় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থী অভিভাবক মামুন আলী বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি সারাদিন অফিশিয়াল কাগজপত্র আর ফাইলের পেছনে সময় দেন, তবে শ্রেণিকক্ষে বাচ্চারা শিখবে কী? প্রধান শিক্ষক না থাকায় পুরো পরিবেশ ভেঙে পড়ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলার রুহিয়া সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) মুসা আলী জানান, তারা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহকারী শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমিয়ে পাঠদান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেন জানান, পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এই সঙ্কট কেটে যাবে।