মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভায় চালু হতে যাচ্ছে নান্দনিক পৌর শিশুপার্ক। শিবচরের ঐতিহ্যবাহী ময়নাকাঁটা নদীর তীরে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত শিশুপার্কের ৯৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিবচর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার বড় দোয়ালী বেপারী কান্দি এলাকায় ময়নাকাঁটা নদীর তীরে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর শিশুপার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে আরো ছয় কোটি ৫৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ সংযুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যয়ভার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
চলতি বছর ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।
শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের বিনোদনের জন্য শিশুপার্কে রাখা হয়েছে দারুন সব রাইড। সেগুলো হলো-নাগরদোলা, জাম্পিং ক্যাঙ্গারু, বাম্পার কার, হ্যাপি সুইং, বিশাল যান্ত্রিক দোলনা, লাইন ডি মুভি রাইডসহ মোট ১৪টি আধুনিক রাইড। রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শরীফ অ্যান্ড সন্স নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা না হলেও পার্কটি দেখতে প্রতিদিন ভীড় করছেন-বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষ।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো: মাসুদ মিয়া বলেন, ‘শিবচর পৌর শিশুপার্কটির পাশের ইউনিয়ন পাঁচ্চরে আমাদের বাড়ি। শিশু পার্কটি এত সুন্দর, এত নান্দনিক, এত দৃষ্টিনন্দন যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমাদের পাশের এলাকায় এত সুন্দর একটি শিশুপার্ক নির্মিত হবে, তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। আশা করি শিশু পার্কটির সৌন্দর্যে সবাই মুগ্ধ হবে। উদ্বোধন হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসার ইচ্ছা রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত পার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।’
খানকান্দি সৈয়দ আশরাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাত ইসলাম এলিসা বলেন, ‘আমাদের স্কুলের কাছে এত সুন্দর একটা শিশুপার্ক। আমার আব্বা-আাম্মু বান্ধবীরা মিলে বিকেল বেলা শিশুপার্কে ঘুরতে আসি। ময়নাকাঁটা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুন্দর এই শিশুপার্কটি।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান সোহাগ দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে এত সুন্দর একটি নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্ক নির্মিত হবে তা কখনো কল্পনা করিনি। ছুটিতে বাড়ি আসলে বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বের হই। কিন্তু আমাদের শিবচরে ভালো কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় তেমন কোনো আনন্দ করতে পারি না। তবে, শিশুপার্কটি চালু হলে বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসলে মোটামুটি একটা বিনোদনের ব্যবস্থা হবে। বিভিন্ন রাইডে চড়বো, ঘুরে বেড়াবো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া যাবে এবং সুন্দর একটা মুহূর্ত উপভোগ করতে পারব। ’
শিবচর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি এ এইচ শাহীন মাস্টার জানান, বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয় শিবচর পৌরসভাকে। কিন্তু শিবচরে বিনোদনের তেমন কোনো দর্শনীয় স্থান নেই। এই পৌর শিশু পার্কটি চালু হলে শিবচর উপজেলাবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র হবে। তাই এটি দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রতিটি রাইডের মূল্য যেন জনসাধারণের নাগালের মধ্যে থাকে, সে ব্যাপারে প্রশাসন যেনো যথাযথ ভূমিকা পালন করে।
শিবচর পৌরসভার প্রশাসক শাইখা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত লোকজন দিনরাত সমানতালে কাজ করছেন। চলতি জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। এরপর দ্রুত পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে যাতে তারা বিভিন্ন রাইডগুলো উপভোগ করতে পারেন।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘এখন শেষ মুহূর্তের কার্যক্রম চলছে। শুধু বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া বাকি। আর জুলাইয়ে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’



