বর্তমান সরকারের ওপর মানুষের বুকভরা আশা রয়েছে: সিসিক প্রশাসক

নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতকরণ এবং পুঁজির সংস্থানে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

সিলেট সিটি করপারেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও শতবর্ষী কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রত্যাশিতভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে পারেনি। কৃষি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উদ্যোক্তাবান্ধব ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালকের কার্যালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বর্তমান জনবান্ধব সরকারের ওপর এ দেশের মানুষের বুকভরা আশা রয়েছে। আমরা অনুসারী হিসেবে কাজ করছি, তাই আমাদের ওপরও অনেক দায়িত্ব বর্তায়।”

তিনি বলেন, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতকরণ এবং পুঁজির সংস্থানে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সিলেটের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে উইম্যান চেম্বার এবং কৃষি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিলেট থেকে সরাসরি বিদেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

সিসিক প্রশাসক জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং সুবিধার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা কৃষি বিপণনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে একটি আধুনিক ডিসপ্লে সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক জুলিয়া জেসমিন মিলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, সিলেট উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা, হবিগঞ্জের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রাবেল তালুকদার এবং মৌলভীবাজারের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ফারুক উদ্দিন চৌধুরী।

এ ছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন গ্রাসরুটসের সভাপতি হিমাংশু মিত্র, সম্পাদক নাফিসা শবনম এবং উদ্যোক্তা মো. সৈয়দুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী সফল কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।