ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যাচাই করবে ডিএফটি ও আইকাও

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক সিলেটি যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা না থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মূল্যায়নকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনার সাথে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) প্রতিনিধি দল । একই সাথে আগামী অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুই মূল্যায়নের ইতিবাচক ফল ওসমানী বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ডিএফটির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তারা ১৭ জুলাই পর্যন্ত ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করবেন।

এদিকে, আইকাওর বিশেষজ্ঞ দল আগামী ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা অডিট পরিচালনা করবে। এই অডিটে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের সাথে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর সামঞ্জস্য মূল্যায়ন করা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক সিলেটি যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা না থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মূল্যায়নকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনার সাথে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অবকাঠামো আরো উন্নত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি) সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টে এসব সরঞ্জাম দেশে পৌঁছানোর পর ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, আইকাওর অডিট সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এসব গ্রুপ আইকাওর ৪৯৪টি প্রটোকল প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ করছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ছিল ৬৫ শতাংশ। এবার বেবিচকের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন করা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা, সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলছে।

অন্যদিকে, সর্বশেষ ডিএফটির মূল্যায়নে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় ১০০ শতাংশ স্কোর অর্জন করে। যাত্রী নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অডিট। তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্ধারিত নয়টি বিষয়ে কাজ করছে। ৪৯৪টি প্রটোকল প্রশ্নের আলোকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনো দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এবার বাংলাদেশের স্কোর ৭৫ শতাংশের বেশি হবে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। গত বছর ওসমানী বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছিল। তবে এবার যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা মানের সাথে আরও সমন্বয় নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে ভবিষ্যতে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।