সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা-পরবর্তী পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণে চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) লিটন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার রাত প্রায় ১০টার দিকে সাভার পৌর এলাকার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন থানা রোডের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন শহীদের বাবা শাহীন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান (৩৫)। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শামীমা পারভীন জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে।
তিনি বলেন, পথসভার আগে কেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত পৌনে ৯টার দিকে থানা রোডে এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সামনে থেকে পদযাত্রা তারাপুর ঈদগাহ মাঠে পৌঁছানোর ঠিক আগে রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপরও সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভা চলছিল। ঢাকা জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে অল্প দূরে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শাহীন খন্দকারের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং জসিম, শাহাদাত হোসেন ও ইমরান শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন।
ঘটনার সময় এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের পর সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পথসভায় পৌঁছানোর পরই বিদ্যুৎ বন্ধ করে প্রশাসনের সহায়তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এটি তাদের কর্মসূচি পণ্ড ও হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত হামলা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, এনসিপির জুলাইয়ের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
পরে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাভার মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দেয় এবং এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনিকে বাদী করে মামলা করার কথা জানায়।
থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলার পেছনে সরকার ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এবং তাদের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।



