বজ্রপাতে ৩ মাদরাসাশিক্ষার্থীসহ পৃথক স্থানে ৮ জনের মৃত্যু

কোন্ডা বাজারপাড়া এলাকায় একটি লাল শাকের ক্ষেত চাষাবাদ করছিলেন দ্বীন ইসলাম। শাক তোলার কাজে দু’জন কৃষি শ্রমিককে হেমায়েতপুর থেকে কাজের জন্য নিয়ে আসেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বজ্রপাতে তিন জেলায় সাতজনের মৃত্যু
বজ্রপাতে তিন জেলায় সাতজনের মৃত্যু |প্রতীকী ছবি

বজ্রপাতে মাদরাসাশিক্ষার্থীসহ চার জেলায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীতে অজু করার সময় তিনজন মাদরাসাশিক্ষার্থী, রাজধানীর সাভারে জমিতে কাজ করা সময় তিনজন, জামালপুরে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে একজন ও কিশোরগঞ্জে এক মাঝির মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী—

নরসিংদী
নরসিংদীর মনোহরদীতে অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো একজন।

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পাঁচকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ৩ শিক্ষার্থী হলো— কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাদলের ছেলে জহিরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আবু রায়হান ও একই এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর।

স্থানীয়রা জানান, মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অজু করছিল। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা: বুলবুল কবির বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারী তিন শিক্ষার্থীর বয়স ১৩-১৫ বছরের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত অপর শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সে ভালো আছে।

সাভার
রাজধানীর ‎সাভারে কৃষিকাজ করার সময় জমির মালিকসহ তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টার দিকে বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা বাজারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— বলিয়ারপুরের মরহুম বুদ্দু মিয়ার ছেলে ও জমির মালিক দ্বীন ইসলাম (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর থানার মরহুম আব্বাস আলীর ছেলে দুলাল (৬০) ও রাজবাড়ির পাংশা থানার আদু প্রাণিকের ছেলে হক আলী প্রাং (৬২)।

রোববার রাতে ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) ইমরান হোসেন বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোন্ডা বাজারপাড়া এলাকায় একটি লাল শাকের ক্ষেত চাষাবাদ করছিলেন দ্বীন ইসলাম। শাক তোলার কাজে দু’জন কৃষি শ্রমিককে হেমায়েতপুর থেকে কাজের জন্য নিয়ে আসেন। বিকেলে বৃষ্টির সময় মালিক দ্বীন ইসলামসহ কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।

ভবানীপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ (এসআই) ইমরান হোসেন জানান, লাশ তিনটি পরিবারের কাছে রাতে হস্তান্তর করা হয়।

কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বজ্রপাতে বাবুল সরকার (৪৫) নামে নৌকার এক মাঝির মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা কাছু মিয়ার ছেলে। তিনি স্টিলবডি একটি নৌকা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নৌকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী একটি স্টিলবডি নৌকায় করে ধান নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে গিয়েছিলেন। সেখানে ধান বিক্রি করে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। নৌকার মাঝি ছিলেন বাবুল সরকার। পথে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। তবে নৌকার মাঝি হওয়ায় বাবুল সরকার নৌকার ওপরেই অবস্থান করছিলেন।

এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নৌকার ওপরেই মারা যান। বজ্রপাতের বিকট শব্দ ও নৌকার অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখে পাটাতনের নিচে থাকা অন্যরা ওপরে উঠে এসে বাবুল সরকারকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মুসা ফকির (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চরবওলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুসা ফকির উত্তর চরবওলা গ্রামের মরহুম মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে বাড়ির গরুর খাদ্যের জন্য পাশের মাঠে ঘাস কাটতে যান মুসা ফকির। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: নাহিদুজ্জামান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মুসা ফকিরের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, বজ্রপাতে মুসা ফকির নামে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।