চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ (৪০) নামে এক শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের বেগুয়ারখালি চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে উক্ত মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা সাহানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বুধবার রাতে তিনি মাদরাসায় আমার মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তিনি তর্কবিতর্কে জড়ান।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসায় চড়াও হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাবা আবুল হোসেন ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



