সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বনভূমি দখল এবং শত শত গাছের চারা ধ্বংসের অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বন বিভাগ। মামলায় সরকারি সম্পদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ছাতক রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা কে.বি.এম. ফেরদৌসের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ছাতক থানায় মামলাটি (মামলা নং-২২) রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং বন আইন, ১৯২৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাতিরলিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন নাছিমপুর মৌজার সংরক্ষিত বন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্র ও ট্র্যাক্টর নিয়ে প্রবেশ করে। তারা বনভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের পাশাপাশি বালু পরিবহনের জন্য বনাঞ্চলের ভেতরে রাস্তা তৈরি করতে অসংখ্য চারাগাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে।
মামলায় আমির হোসেন, আরকান মিয়া, বদরুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, দুদু মিয়া, আফছার, হেলাল, কাওসার, সোহেল, আয়না, জয়নাল, জাহাঙ্গীর, জয়নুল ও ইমরানসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৫০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন এলাকায় রোপণ করা প্রায় ৭০০টি বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ সম্পূর্ণ নষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বন বিভাগ।
এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গাছ ধ্বংসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বালু উত্তোলন, পরিবহন, বনভূমির অবকাঠামো এবং সামাজিক বনায়নের রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার টাকা।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন ও নদী এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।



