গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হামলায় নিহত সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন

‎হামলায় সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে সাইফুল্লাহ বারী এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে গলায় আঘাত করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
যুবদল নেতার হামলায় নিহত সালাহউদ্দিনের জানাজা নামাজ
যুবদল নেতার হামলায় নিহত সালাহউদ্দিনের জানাজা নামাজ |নয়া দিগন্ত

‎গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় যুবদল নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

‎রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও একই ঘটনায় নিহত বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদ সাইফুল্লাহ বারীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।

এর আগে, গুরুতর আহত অবস্থায় ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সালাহউদ্দিনের ‎জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও রংপুর উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন।

‎জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান রোকনসহ জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন।

‎এছাড়া গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, সেক্রেটারি ফাহিম মণ্ডল, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, সেক্রেটারি আব্দুল গফুর ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎সালাউদ্দিন বোনারপাড়ার শিমুলতাইড় গ্রামের সামছুল হক দুদুর ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস করেছিলেন তিনি। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন বিকেল ৩টার দিকে সাঘাটার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের কর্মী সালাউদ্দিন। ওই দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যু হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সাথে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।

‎এর কিছুক্ষণ পর মুকুল ও তার লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পথরোধ করে বোনারপাড়া চৌমাথায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন।

‎এ সময় যুবদল নেতা মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ ও মোনারুলসহ ১০-১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

‎হামলায় সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে সাইফুল্লাহ বারী এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে গলায় আঘাত করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

‎পরে স্থানীয়রা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহ বারীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

‎সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জুন রাতে তার বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়।

‎হামলার মূল অভিযুক্ত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে গাইবান্ধা জেলা যুবদল। জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়।

‎গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী বলেন, সালাউদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। ৪৮ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছি। একইসাথে যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান বলেন, রোববার সকালে নিজ গ্রামে সালাউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।