রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী এবং এক শহীদ পরিবারের সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ জালাল কিসমত এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ মিন্টু ফরায়েজী।
জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানের শুরুতেই তারা ওই দুই নেতার উপস্থিতির বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তখন জানান, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা উপস্থিত রয়েছেন। পরে বিষয়টি আর না বাড়ালেও শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের কষ্ট দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
জুলাই আন্দোলনে নিহত রায়পুরের ওসমান পাটোয়ারীর বাবা আব্দুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা উপস্থিত ছিলেন—এ তথ্য তিনি আগে জানতেন না। তাদের কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ মিন্টু ফরায়েজী বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও চাঁদাবাজি, লুটপাট বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি জুলাই আন্দোলনের বাস্তবতাও মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘জুলাই শহিদ দিবস রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।’



