খুলনায় শ্রমিক দল নেতাসহ ৪ জনের জেল-জরিমানা, মুচলেকায় হস্তান্তর

শনিবার দিবাগত রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় দু’জনকে গ্রেফতার করার পর মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম থানায় এসে প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন তারাও মদ্যপ অবস্থায় ছিল।

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
খুলনায় মাদক সেবনের দায়ে শ্রমিক দল নেতাসহ চারজনের জেল-জরিমানা
খুলনায় মাদক সেবনের দায়ে শ্রমিক দল নেতাসহ চারজনের জেল-জরিমানা |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

খুলনায় মাদক সেবনের অভিযোগে ওয়ার্ড শ্রমিক দলের নেতাসহ চারজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। পরে সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক আসাদুজ্জামান এ রায় (সামারি ট্রায়াল) ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তফা শেখ দুলাল, তার সহযোগী মো: শরিফুল ইসলাম এবং মো: পারভেজ শেখ ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

মো: মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী মো: শরিফুল ইসলামকে মদ পানের অভিযোগে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং গাজা সেবনের অভিযোগে মো: পারভেজ শেখ ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শেখ দুলালকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার এক বিবৃতিতে মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

আদালত সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে গাজা সেবনরত অবস্থায় মো: পারভেজ শেখ ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। রাত পৌনে ১টার দিকে তাদের ছাড়ানোর জন্য মদ্যপ অবস্থায় ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী মো: শরিফুল ইসলামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুই-তিনজন সোনাডাঙ্গা থানায় আসেন। পরে গ্রেফতার দু’জনের সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

এ সময় শ্রমিক দল নেতা মোস্তফা শেখ দুলাল থানায় কর্মরত সহকারী পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) নাদিম মাহমুদের সাথে দেখা করে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে এসআই নাদিম মাহমুদ রাজি না হলে দুলাল শেখ ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম এসআই নাদিম মাহমুদসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুত করার হুমকিসহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন ও হুমকি দেন।

তখন পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরে দুলাল শেখ ও শরিফুলকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোববার দুপুরে মো: মোস্তফা শেখ দুলাল, তার সহযোগী মো: শরিফুল ইসলাম এবং মো: পারভেজ শেখ ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ হাজির করা হয়।

এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় দু’জনকে গ্রেফতার করার পর মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম থানায় এসে প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন তারাও মদ্যপ অবস্থায় ছিল। আর মদ্যপ অবস্থায় থাকলে তারা কী ধরনের আচারণ করতে পারে সেটাতো বোঝেন। পরে তাদের গ্রেফতার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোববার দুপুরে ওই দু’জনসহ চার আসামিকেই খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ হাজির করা হয়।