গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলে পোশাকশ্রমিক শান্তা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামী মো: সাইফুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন সাইফুল। পরে আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার।
পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে সাইফুল শান্তাকে একটি ছুরি কিনে আনতে বলেন। ছুরি কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘তোমাকে খুন করব।’ তখন শান্তা তাকে বলেন, ‘তুমি আমাকে খুন করতে পারো না, কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো।’ পরে ফল কেটে খাওয়ার কথা বলে তাকে ছুরি কিনে আনতে পাঠান সাইফুল।
শান্তা সরল বিশ্বাসে ছুরি কিনে আনেন। সেই ছুরি দিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন অভিযুক্ত সাইফুল।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে শান্তা এক অজ্ঞাত পরিচয় পুরুষের সাথে চান্দনা চৌরাস্তার আনোয়ারা ম্যানশনের ‘হোটেল ই-ভ্যালি আবাসিক’-এর ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হোটেল রেজিস্টারে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ওই পুরুষ খাবার আনার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও ফিরে না আসায় হোটেলকর্মী কক্ষে গিয়ে শান্তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
রাত পৌনে ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তার গলায় গুরুতর কাটা জখম এবং বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত দেখতে পায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত শান্তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল সবুজ নামে এক ব্যক্তির সাথে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় চার বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে প্রায় তিন বছর আগে সাইফুল ইসলামকে বিয়ে করেন শান্তা। দাম্পত্য জীবনে নির্যাতনের অভিযোগে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে সাইফুলকে তালাক দেন তিনি।
এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন শান্তা।
আসামি সাইফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, শান্তা টিকটক করতেন এবং অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহও ছিল সাইফুলের।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুলের অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী তদন্ত করছেন।



