ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব দাবি আদায় করব : ডা: শফিকুর রহমান

আজকের লংমার্চ ছয় দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

হাবিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা

Location :

Cumilla
বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় ঐক্যের সব দাবি আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হবে। জুলাই সনদও শতভাগ বাস্তবায়ন হবে। দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের যতগুলো দাবি আছে, সব দাবি আমরা আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।’

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ করা হয়, তখন একই সাথে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবিও উঠেছিল। কিন্তু তখন কুমিল্লা বিভাগ হয়নি।’

‘কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দেন, কুমিল্লা বিভাগ করেন।’

লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচি দিয়ে শুরু। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে?’

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কুমিল্লার লোকেরা আপনারা যাবেন? প্রয়োজনে চিড়া-মুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন।’

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ছয় মাসে সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।’

সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কোনোটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু করেছি। আসতে আসতে জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। মানুষ আমাদের গাড়ি থামিয়ে হাত মেলাচ্ছে এবং নিজেদের সমস্যার কথা বলছে। মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, তেল নেই। মানুষ কাজ পাচ্ছে না। এই সরকারের ওপর মানুষ বিরক্ত।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম জানান, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বহুবার কুমিল্লায় সভা করেছেন। তবে এত বড় সমাবেশ কুমিল্লায় কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘জনগণের একটাই কথা—এই সরকারকে আমরা আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ ছয় দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীদের সন্তান, পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে।’

এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে দুঃখ-কষ্টে আছে, তা লাঘব করাই তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য।’

সরকারকে ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে এই আন্দোলনের সূচনা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জনগণের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়েছেন’।

এমন অভিযোগ তুলে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে বিষয়টি মেনে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জনগণের দেয়া রায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিবাদী সরকারগুলোর মতো হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, মাওলানা আব্দুল হালিমসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

পথসভার সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু: মাহবুবর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।