কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তে বিজিবি‘র আহ্বানে পতাকা বৈঠকের পরেও কোনো সমাধান না হওয়ায় ৫৬ ঘণ্টা সীমান্তে পুশইন হওয়া ১২ জন সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতের অভ্যন্তরের ৩০ গজের মধ্যে ফসলি জমির আইলে অবস্থান নিয়ে অমানবিক সময় পার করছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশইনের ঘটনায় কঠোর ভাষায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কাঁটাতারের ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত নারী-শিশুসহ ১২ জনকে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, সীমান্তে অবস্থানরত ওই ১২ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকায়ই অবস্থান করতে হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে, শুক্রবার দিবাগত রাতে দ্বিতীয় দফায় দৌলতপুর সীমান্তের আরো দুটি পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আটজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির টহল ও উপস্থিতি টের পেয়ে কাউকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ। পরে তাদের ভারতীয় ভুখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
শনিবারের পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানীনগর বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব। বৈঠকে পুশইনের ঘটনা ছাড়াও সীমান্ত পরিস্থিতি ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ঘটনার পরপরই বিজিবি বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। শুক্রবার বিকেলে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হলেও বিএসএফ উপস্থিত হয়নি। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ওই ১২ জন ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। শুক্রবার রাত তারা খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। শনিবার সকালেও তাদের সীমান্তবর্তী একটি পাটক্ষেতের আইলে অবস্থান করতে দেখা যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ‘কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, পুশইনের চেষ্টাকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বিজিবি কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না।’
তিনি আরো বলেন, শুক্রবার রাতেও সীমান্তের দুটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে আবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে আমাদের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি। সর্বশেষ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিজিবি কুষ্টিয়ার একটি সূত্রে জানা যায়, শিশু ও নারীসহ পুশইনের ১২ জন এখন সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতের অভ্যন্তরের ৩০ গজের মধ্যে ফসলি জমির আইলে অবস্থান করছে। বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করেছে। শনিবার বিএসএফের আর কোনো পুশইনের তৎপরতা দেখা যায়নি।



