সৈয়দপুরে অটোযাত্রীকে অজ্ঞান করে অপহরণের অভিযোগ

তিন অস্ত্রধারী রেজওয়ানকে নির্জন একটি ঘরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অপহরণকারীরা তার হাত ও পেটে ধারালো চাকু দিয়ে জখম করে। পরে তিনি কৌশলে এক অপহরণকারীকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে আসেন এবং মহাসড়কের পাশে লুটিয়ে পড়েন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Nilphamari
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজওয়ান উল্লাহ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজওয়ান উল্লাহ |নয়া দিগন্ত

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অপহরণকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে রেজওয়ান উল্লাহ (১৮) নামে এক তরুণ গুরুতর জখম হয়েছেন। চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে অপহরণের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দেয়ায় ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে।

আহত রেজওয়ান উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাসকান্দর গ্রামের রিকশাচালক মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় টাইলস মিস্ত্রি।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অটোরিকশায় ওঠার পর মাস্ক পরা এক যাত্রী রেজওয়ানের নাকের কাছে চেতনানাশক জাতীয় কিছু একটা ধরলে তিনি জ্ঞান হারান। ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

পরে তিন অস্ত্রধারী তাকে নির্জন একটি ঘরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অপহরণকারীরা তার হাত ও পেটে ধারালো চাকু দিয়ে জখম করে। পরে তিনি কৌশলে এক অপহরণকারীকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে আসেন এবং মহাসড়কের পাশে লুটিয়ে পড়েন।

পরে আব্দুল মজিদ নামে এক রিকশাচালক তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: নাজমুল হুদা জানান, তরুণের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তার শরীরে ২০টি সেলাই দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ছিনতাই ও ক্যাসিনো-জুয়ার কোনো বিরোধ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।