নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের বাসিন্দারা। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে তদন্ত ছাড়া মামলা গ্রহণের অভিযোগে এ দুই কর্মকর্তাকে সোনারগাঁও থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবি করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ও উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন মিয়ার প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে এসে কাউকে হয়রানির করা হবে না বলে আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি সমাপ্ত করে।
মানববন্ধনে জৈনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম জহির, নাসিমা আক্তার, মাহমুদা আক্তার, শিল্পী আক্তার, তানভীর হোসেন, ফুল মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্থানীয়রা জানায়, জৈনপুর গ্রামের আর অ্যান্ড এইচ থেকে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হয়ে জৈনপুর পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়। তবে, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে একটি বেসরকারি কোম্পানির ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেয়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত মে মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ অবস্থায়, গত ২০ আগস্ট ওই সড়ক দিয়ে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক ওই কোম্পানির কারখানায় যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়। এসময় কোম্পানির ঠিকাদার আবু সাঈদের নেতৃত্বে আবুল কালাম সোপান, নাঈম, লিটনসহ ১০-১২ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে কয়েকজনকে আহত করে। এ ঘটনায় ওই কোম্পানি ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। কোম্পানির অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করলেও গ্রামবাসীর অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ।
মানববন্ধনে ওই গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা দিলে কোম্পানির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নারীসহ সাতজন আহত হন। পরে কোম্পানির পক্ষ থেকে উল্টো আহত ব্যক্তিসহ সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দিনমজুরকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ কোম্পানির দায়ের করা অভিযোগটি তিন ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
অন্য এক আন্দোলনকারী তানভীর হোসেন বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে দেয়া অভিযোগ এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। উল্টো তদন্তের নামে গ্রামের বাসিন্দাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আনোয়ার হোসেন ও এসআই হারুন মিয়া কোম্পানির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মামলা গ্রহণ করে গ্রামবাসীকে হয়রানি করছেন। তাদেরকে অবিলম্বে সোনারগাঁ থানা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই হারুন মিয়া বলেন, ‘ছোট রাস্তায় ট্রাক চলাচলকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক তদন্তে ট্রাক আটকে দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোনাগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসি মামলা নিয়েছেন। তবে মামলায় সাংবাদিকের নাম আছে কিনা জানা নেই।’
অন্য অভিযুক্ত পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পেয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সত্য নয়। গ্রামবাসীর পক্ষে কেউ অভিযোগ দেননি।’
সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি এ থানার দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে, এ ঘটনায় কাউকে হয়রানি করা হবে না মর্মে আশ্বস্ত করে কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে।’



