ভোলা শহরের উকিল পাড়া থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

ভোলা শহরের উকিল পাড়ার একটি ফ্ল্যাট থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু (২২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ পলাতক রয়েছেন।

ভোলা প্রতিনিধি

Location :

Bhola
ভোলা সদর মডেল থানা
ভোলা সদর মডেল থানা |নয়া দিগন্ত

ভোলা শহরের উকিল পাড়ার একটি ফ্ল্যাট থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু (২২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ফ্ল্যাটের ৫ম তলার একটি কক্ষ থেকে মিতুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমাইয়া আক্তার মিতু দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের চডার মাথা এলাকার বশির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ভোলা শহরের থাই ও গ্লাস ব্যবসায়ী মো: সোহাগের স্ত্রী। তাদের ২ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মিতু সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সাথে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক মাস তাদের সাংসারিক জীবন সুখের হলেও একপর্যায়ে তাতে চরম অশান্তি নেমে আসে। এ নিয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মিতু সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিত অভিযোগও করেছেন। কিন্তু, তাতে সন্তোষজনক কোনো সমাধান হয়নি।

মৃত মিতুর মা জানান, মিতুর স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে জানায় মিতু মারা গেছে। এরপর খবর পেয়ে সাথে সাথে তার পরিবার ওই ফ্ল্যাটে আসেন। এরপর মিতুর লাশ খাটের উপর দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

মিতুর পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিতুর স্বামী শাশুড়ি ও ননদ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এখন তারা মিতুকে হত্যা করে লাশ ফ্ল্যাটে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে আহাজারি করছেন মিতুর বাবা-মাসহ স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ। মেয়েকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বাবা বশির উদ্দিন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো: জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী মিতুর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় একটি এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’