প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে আলোচিত সিফাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, পুরোনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সিফাতকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সিফাতের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি ও অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।
সিফাতের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রবি বলেন, বিদ্যুৎ বিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও গ্রেফতার, অথচ সেই বিষয়গুলোর উল্লেখ নেই সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারে। এমনকি জামিন শুনানিতেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেননি।
অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী সিফাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাথে জড়িত। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের সাথেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন। সিফাতকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অপরদিকে মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান জানান, সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন টিনের মসজিদ এলাকার বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গাছা থানায় নেয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে সিফাতকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। পরদিন তাকে আগের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকৈর টিনের মসজিদ এলাকায় বসবাস করেন।
এদিকে সিফাতের উত্থাপিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ তদন্ত করেছে। তদন্তে তার বাসার তিনটি মিটারের বিল পর্যালোচনা করে বিল প্রস্তুতে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিফাতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে সিফাত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি সালাম জানিয়েছেন এবং নিজের বক্তব্যের ভাষা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত তার বক্তব্যের যৌক্তিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়টি নিয়ে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে তার আইনজীবী জানান।
ওকালতনামা সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আগের দিন জামিন আবেদন করা সম্ভব হয়নি। আজ সোমবার সেই জামিন আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা নামঞ্জুর হয়।



