মতলব উত্তরে শিশু ধর্ষণের মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

২০২১ সালের ৯ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি তার আপন ভাইয়ের সাথে বাড়ির পাশের একটি জমিতে বীজ পাহারা দিতে যায়। কিছুক্ষণ পর তার ভাই শিশুটিকে সেখানে রেখে বাড়িতে খাবার খেতে গেলে সুযোগ পেয়ে আসামি অরুণ ভূঁইয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Matlab Uttar
ধর্ষণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো: অরুণ ভূঁইয়াকে রায় ঘোষণার পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
ধর্ষণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো: অরুণ ভূঁইয়াকে রায় ঘোষণার পর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো: অরুণ ভূঁইয়া (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো: রেজাউল করিম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আাসমি মো: অরুণ ভূঁইয়া মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ির মরহুম আব্দুল কাদির ভূঁইয়ার ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি তার আপন ভাইয়ের সাথে বাড়ির পাশের একটি জমিতে বীজ পাহারা দিতে যায়। কিছুক্ষণ পর তার ভাই শিশুটিকে সেখানে রেখে বাড়িতে খাবার খেতে গেলে সুযোগ পেয়ে আসামি অরুণ ভূঁইয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি তার দাদিকে ঘটনাটি জানায়। সেদিন শিশুটির বাবা-মা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তারা বাড়িতে ফিরে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে ১৪ জুলাই মতলব উত্তর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: মোবারক আলী। তিনি ১৫ জুলাই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা মুক্তা জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামির স্বীকারোক্তি ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান।