নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার দুটি নিমগাছ ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর কেটে নিজ ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত হলেন—উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানার একদিন পর বন বিভাগ ওই ‘স’ মিল থেকে গাছ দুটি জব্দ করেছে।
জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চাংকুড়ি মোড় থেকে তেজপাইন মোড়ের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। এ রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। গত শনিবার রাতে ঝড়ে এ রাস্তার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় দুটি নিমগাছ উপড়ে পড়ে যায়। পরদিন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে গাছ দুটি কেটে নওহাটা মোড়ে তার ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি রাস্তার গাছ সরকারি অনুমতি ছাড়াই কীভাবে কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে আসার যে দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে কেউ এমন গুজব রটানোর চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘ঝড়ে দুটি গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে ছিল। গাছের সর্বোচ্চ মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা হবে। সেখানকার উপকারভোগীরা (গাছ পরিচর্যা সদস্য) আমার সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিক দিতে বলে। পরে তারাই দেড় হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গাছ কেটে নেয়। ওই দুটি গাছ তারা আরো এক হাজার টাকা পরিবহন খরচ করে আমার ‘স’ মিলে নিয়ে এসে রাখে। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে গাছ দুটি নিয়ে যায়।’
মহাদেবপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি কেউ বিক্রিও করতে পারবে না। বিষয়টি জানার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে গাছ দুটি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গাছের মোথাও (গোড়া) নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনসহ এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’



