বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শের পাশাপাশি প্রয়োজন শক্তি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার। পৃথিবীতে নবী-রাসূলদের প্রেরণ, আসমানি কিতাব এবং মিজান বা মানদণ্ড দেয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র মানবজাতিকে সুবিচার ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা।’
রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা ইমরান হুসাইন, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান, ড. শাহ আলম, সাবেক উপ-সচিব স ম আবু তালেব, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা: আব্দুল্লাহিল গালিব, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুল গফফার, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূলকে আল্লাহ তাআলা মানুষের হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছেন। তাদের কাছে সুস্পষ্ট বয়ান বা বাইয়্যিনাহ, কিতাব ও মিজান দেয়া হয়েছিল। মিজান অর্থ মানদণ্ড। সাধারণভাবে এর বাংলা অর্থ দাঁড়িপাল্লা করা হলেও এখানে ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম, ইনসাফ-জুলুম, ন্যায়-অন্যায় এবং সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের মানদণ্ড বোঝানো হয়েছে। এই মানদণ্ডের চূড়ান্ত রূপ হলো আল কোরআন।’
তিনি বলেন, ‘রবিউল আউয়াল মাস এলেই শুধু সীরাতের আলোচনা করা যথেষ্ট নয়। বছরের ১২ মাসই রাসূলের জীবন, দর্শন, আইন, বিধান ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ বা উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শুধু একটি মাসে সীরাত আলোচনা করে বাকি সময় নবীর আদর্শ ভুলে থাকলে তার জীবন থেকে প্রকৃত শিক্ষা নেয়া সম্ভব নয়।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সাথে শক্তির বিষয়টিও যুক্ত। তার ব্যাখ্যায়, হাদীদ বা লোহা শক্তির প্রতীক।’
‘লোহা দিয়ে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই জাস্টিস, এই সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটা পাওয়ার প্রয়োজন হয়। লোহা শক্তির প্রতীক। রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ঠিক রাখা এবং সমাজে আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হয়, আবার মানুষের কল্যাণও নিশ্চিত করতে হয়।’
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কী জীবনের সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নবুওয়াত লাভের আগে ৪০ বছর এবং নবুওয়াতের পর মক্কায় ১৩ বছর ও মদিনায় ১০ বছর মোট ৬৩ বছরের জীবনে রাসূলের জীবন ছিল ত্যাগ, সংগ্রাম ও পরীক্ষায় পূর্ণ। মক্কার ১৩ বছরের সংগ্রামে সাহাবিরা নির্যাতন সহ্য করেছেন, অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে হিজরত করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল আল্লাহর একত্ববাদ, হেদায়েত, কিতাব ও মিজানের শিক্ষা মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মেরাজে রাসূলুল্লাহ (সা.) জান্নাত, জাহান্নাম, আসমান এবং বিভিন্ন নবীর সাথে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে নবীর মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা তৈরি হয় এবং তিনি দাওয়াত ও সংগ্রামের পথে আরো শক্তভাবে এগিয়ে যান।’



