ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেসের খাবার বগিতে বিনা টিকিটের যাত্রী বসিয়ে ‘বাড়তি ভাড়া’ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে খাবার বগির কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে খাবার বগির কর্মী শামসুকে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। টাকা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সাথে তার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে।
খাবার বগি কি ‘বাড়তি ভাড়া’ আদায়ের জায়গা?
যাত্রীদের অভিযোগ, খাবার বগিতে বিনা টিকিটের যাত্রী বসিয়ে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হচ্ছে। এতে খাবার বগিতে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীরাও খাবার গ্রহণের সময় বসার জায়গা পাচ্ছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো ও বসানোর কারণে অনেক সময় খাবার বগির পরিবেশ লোকাল বাসের মতো হয়ে যায়। এতে প্রকৃত যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
যাত্রীদের প্রশ্ন—খাবার বগি যদি যাত্রীদের খাবার পরিবেশন ও সেবার জন্য নির্ধারিত হয়, তাহলে সেখানে বিনা টিকিটের যাত্রী বসিয়ে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কীভাবে?
ভিডিওতে টাকা সংগ্রহ, প্রশ্ন শামসুর ভূমিকা নিয়ে
ভিডিওতে বেয়ারা শামসুকে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে দেখা যাওয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শামসু ক্যাটারিং ম্যানেজার হযরত আলীর অধীনে কর্মরত।
ফলে তার মাধ্যমে নিয়মবহির্ভাবে অর্থ আদায় হয়ে থাকলে সেটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে, নাকি ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দেশনায়—তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
কেন টাকা নেয়া হচ্ছিল, তা বৈধ কোনো সেবার বিনিময়ে নেয়া হয়েছে কি না এবং সংগৃহীত অর্থের হিসাব কোথায়—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘ভাগ’ দেয়ার অভিযোগ
এদিকে একটি সূত্রের দাবি, খাবার বগিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে সংগৃহীত টাকার একটি অংশ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দিতে হয়। ওই ‘ভাগ’ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ডিউটি থেকে সরিয়ে দেয়া কিংবা চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয় বলেও সূত্রটির দাবি।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
যাত্রীদের প্রশ্ন, খাবার বগিতে নিয়মবহির্ভাবে যাত্রী বসানো ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা যদি নিয়মিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নজর এড়িয়ে তা কীভাবে সম্ভব?
কার নির্দেশে অতিরিক্ত যাত্রী বসানো হচ্ছে, কত টাকা নেয়া হচ্ছে, সেই অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে এবং প্রতিদিনের আদায়ের হিসাব কীভাবে রাখা হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তারা।
তবে ক্যাটারিং ম্যানেজার হযরত আলী এ কর্মকাণ্ডের অনুমতি দিয়েছেন কিংবা অর্থ আদায়ের সাথে তিনি সরাসরি জড়িত—এমন কোনো তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হযরত আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রেলওয়ের বক্তব্য
রেলওয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের টিআইসি মজিবুর রহমান বলেন, ‘খাবার বগিতে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন সম্পূর্ণ নিষেধ। তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
টিকিট কেটেও সেবা থেকে বঞ্চিত যাত্রীরা
যাত্রীদের অভিযোগ, খাবারের মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এর সাথে অতিরিক্ত ভিড় ও বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ টিকিটধারী যাত্রীরাই।
তাদের প্রশ্ন—খাবার বগি কি যাত্রীসেবার জন্য, নাকি বিনা টিকিটের যাত্রী বসিয়ে বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্য?
যাত্রীদের দাবি, ঘটনার ভিডিও, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য, যাত্রীদের অভিযোগ এবং অর্থ আদায়ের হিসাব যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।



