বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে : মুফতি আবুল হাসান

তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের রিজার্ভের সিংহভাগ যোগান হয়, সেই সিলেট উন্নয়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকবে; তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা সবাই একজোট। আমরা সংসদের ভেতরে সোচ্চার আছি। প্রয়োজনে সংসদের বাইরেও সোচ্চার হবো।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সমাবেশ শেষে এক বিরাট গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দা বাজারে গিয়ে শেষ হয়
সমাবেশ শেষে এক বিরাট গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দা বাজারে গিয়ে শেষ হয় |ছবি : নয়া দিগন্ত

সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেছেন, বিগত দিনে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। যার ফলে উন্নয়নের সব সূচকেই আমাদের সিলেট পিছিয়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে সিলেটবাসী আর বৈষম্য দেখতে চায় না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রেজিস্ট্রারি মাঠে খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার ডাকে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শাপলা ও জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে এ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মুফতি আবুল হাসান এমপি ঢাকা-সিলেট রেললাইন আধুনিকায়ন, ছয় লেনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করণ, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকল দেশে ফ্লাইট পরিচালনা ও সিলেটের গ্যাস দিয়ে সিলেটের গ্রাহকদের আবাসিক চাহিদা পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের রিজার্ভের সিংহভাগ যোগান হয়, সেই সিলেট উন্নয়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকবে; তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা সবাই একজোট। আমরা সংসদের ভেতরে সোচ্চার আছি। প্রয়োজনে সংসদের বাইরেও সোচ্চার হবো।

মুফতি আবুল হাসান এমপি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিলো বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়া এবং সকল আধিপত্যবাদমুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়া। আমরা যদি এ দেশকে বৈষম্যমুক্ত না করতে পারি। যদি দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে আমরা গাদ্দারি করবো।

তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে- দেশকে এগিয়ে নেয়ার, সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গড়ার। এজন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের কল্যাণের তরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শিব্বির আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, জেদ্দা মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল মুকিত রুপাপুরী, সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর, মহানগর সহ-সভাপতি আবদুল হান্নান তাপাদার, মাওলানা শাহ আশিকুর রহমান, সিলেট জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কাজী আবদু ওয়াদুদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি মুহিবুর রহমান রায়হান, সিলেট পশ্চিম জেলা সভাপতি আবদুল বাসিত, শ্রমিক মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আবদুর রহীম প্রমুখ।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জুলাইযোদ্ধা হাফিজ মাওলানা বিলাল আহমদ চৌধুরী, খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, ডাক্তার ফয়জুল হক, জেলা সহ-সভাপতি শামসুল ইসলাম, মাওলানা আবদুস সালাম, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ ও মাওলানা জুনায়দ আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে এক বিরাট গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দা বাজারে গিয়ে শেষ হয়।