বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবক নিহতের ঘটনায় পতাকা বৈঠক

দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এম এ রকিব, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

Location :

Sreemangal
বিজিবি ও বিএসএফের লোগো
বিজিবি ও বিএসএফের লোগো |ফাইল ছবি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে মো: মুজিব আলী (২০) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহতের ঘটনায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নিহত মুজিব আলী উপজেলার দত্তগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা ও মো: অজিব আলীর ছেলে।

শ্রীমঙ্গলস্থ ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ শনিবার বেলা ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘শনিবার দুপুরবেলা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটা পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরাই কল করেছিলাম, পরে তারা এসেছিল, তখন আমরা শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং তাদের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে লিখিত প্রতিবাদ লিপিও প্রেরণ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে চার্জ করেছি তারা কি কারণে ফায়ার ওপেন করল? ওরা যেটা বলেছে যে, তাদের সেলফ ডিফেন্সের জন্য ওরা ফায়ার করেছে, এখানে শুধু বাংলাদেশী ছিল না, সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারিরাও ছিল। সব মিলে ১৪ থেকে ১৫ জন চোরাকারবারি তাদের ওপর নাকি আক্রমন করেছিল। আমরা তাদের কথা আমলে না নিয়ে বলেছি, না এটা ইচ্ছাকৃত একটা হত্যা, আমাদের একটা নিরিহ মানুষকে এভাবে আপনারা মেরে ফেলছেন।’

লাশ হস্তান্তরের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘লাশ এখনো ভারতীয় হাসপাতালে আছে। এ ধরনের মৃত্যুর পর আইনি কিছু প্রক্রিয়া থাকে, সেগুলো শেষ করে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশী পুলিশের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করবে।’

সেখানে বিজিবি এবং বিএসএফ উপস্থিত থাকবে। পুলিশ যোগাযোগ করে কখন, কোথায় লাশ হস্তান্তর করা হবে সেটা জানানো হবে।

এর আগে শ্রীমঙ্গললস্থ ৪৬ বিজিবির পক্ষ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সেটাতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন)সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম এলাকার ছয় থেকে সাত জনের চোরাকাবারির দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানী মালামাল আনয়নের নিমিত্তে সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ ভাবে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচর এলাকায় প্রবেশ করেন ভারতের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের লাঠিয়া পুড়াবি এসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা উক্ত চোরাকারবাবিদের ওপর অবিবেচকের মতো দুই থেকে তিন রাউন্ড ফায়ার করলে একজন বাংলাদেশী চোরাকারবারি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।