নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলার হাজার হাজার যুবক অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে নিজেদের সর্বশান্ত করে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। আর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়ার উদ্যোক্তা চক্র। জুয়া বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে যুবসমাজ ধ্বংস ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে বলে ধারণা করছে অভিজ্ঞ মহল।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সুবর্ণচরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গণসচেতনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার হাজার হাজার যুবক মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় (কেসিনো) আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।
এদিকে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে, বেড়েই চলছে বিভিন্ন অপরাধ। বিকাশ, রকেট ও নগদ সেবার মাধ্যমে প্রতি দিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়াড়ি চক্র। মোবাইলের মাধ্যমে বাঁশ গাছ তাল গাছ রাস্তার পাশে বসে নিরবিলে জুয়া খেলা ও লেনদেন হচ্ছে। জুয়ার টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইডি ও নাম ব্যবহার করে মোবাইল একাউন্ট খোলে এবং মোবাইল লেনদেন সেবা নেয় জুয়াড়িরা।
গত ৬ মে (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টায় বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হাজীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার মমিন উল্যার ছেলে নজরুল ইসলামকে মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলা হাতে নাতে ধরে ফেলে এবং তাকে আটক করে। পরে তিনি অপরাধ স্বীকার করলে জুয়া আইন, ১৮৬৭-এর ৪ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড ও জরিমানা করা হয়।
অভিযানে র্যাব-১১ সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি দল অংশ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করে।
এ ব্যপারে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘এভাবে জুয়া চলতে থাকলে পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। পাশাাশি আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে।’
তিনি সরকারের কাছে জুয়া বন্ধের দাবি জানান।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদু রহিম বলেন, ‘জুয়া ও মাদক যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা প্রতিরোধ করা না গেলে সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে।’
অনলাইন জুয়া বন্ধ করা যাবে কিনা তা বিটিসিএল’র মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



