৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের পাশে জামায়াত

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোহাদিয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। ওইদিন ট্রাকে করে নোয়াখালী যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Sripur
গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ
গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ |নয়া দিগন্ত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে বাম পা হারানো কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর উপজেলা শাখা। হেলাল উদ্দিনের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দৈনিক সংগ্রামসহ কয়েকটি অনলাইনে ‘৪ আগস্টের গুলিতে এক পা হারিয়ে পঙ্গু শ্রীপুরের কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে যান। নেতৃবৃন্দ তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পরে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর উপজেলার আমির মাওলানা মো: জাহাঙ্গীর কবির, নায়েবে আমির ডা: মো: জসীম উদ্দিন, বরমী ইউনিয়ন আমির মাওলানা মো: আমিনুল ইসলাম, বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো: আব্দুল মতিন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শেখ আজিজুল হক।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোহাদিয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কাঁঠাল ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। ওইদিন ট্রাকে করে নোয়াখালী যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তার বাম পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে কাঁঠালের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন হেলাল উদ্দিন। পা হারানোর পর বন্ধ হয়ে যায় তার ব্যবসা। একদিকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে আয়-রোজগারের পথ বন্ধ, অন্যদিকে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা ব্যয়, বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটছে তার।

নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘একটি গুলি শুধু আমার পা নেয়নি; আমার জীবনটাই থামিয়ে দিয়েছে। এখন চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানোই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’ তিনি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানান।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ হেলাল উদ্দিনের পাশে দাঁড়ানোয় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সহযোগিতাকে মানবিক সহায়তা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবার।