প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ৫ লাখ টাকার চেক পেলেন বাগাতিপাড়ার ফাতেমা

আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ফাতেমার বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

মো: আব্দুল আওয়াল, বাগাতিপাড়া (নাটোর)

Location :

Bagatipara
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করছেন ফাতেমা
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করছেন ফাতেমা |নয়া দিগন্ত

অর্থের অভাবে চীনের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া নাটোরের বাগাতিপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ফাতেমাকে ওই চেক তুলে দেন।

ফাতেমা বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকফো নতুনপাড়া গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খাঁনের মেয়ে।

পরিবারের দাবি, ওই অর্থ পাওয়ার কারণেই মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানমের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। যার সম্পূর্ণ অবদান দিয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলকে।

জানা গেছে, ফাতেমা খানম চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে (First Affiliated Hospital of Zhengzhou University) এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। ভর্তি ও প্রাথমিক খরচ বাবদ প্রায় ছয় লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে এ অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

ফাতেমা ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে আইইএলটিএস সম্পন্ন করে সিএসসিএ-এর মাধ্যমে চীনের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন পান। পাশাপাশি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ফাতেমার বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নজরে আসে। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুই ধাপে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকার ব্যবস্থা করেন। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বৃহস্পতিবার পাঁচ লাখ টাকার অনুদান পান ফাতেমা।

ফাতেমা খানম বলেন, আজকে আমার ও আমার পরিবারের জন্য খুবই আনন্দের একটি দিন। অর্থের অভাবে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজকে প্রধানমন্ত্রী আমার সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আপুর।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২১ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা করে তিনটি চেক পেয়েছেন। মন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগেই তিনি ওই সহায়তা পেয়েছেন বলেও জানান ফাতেমা।

ফাতেমা বলেন, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরে আসতে চাই। দেশ ও এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব।

ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, আমার মেয়ে ডাক্তার হতে পারবে সেজন্য আমরা খুবই আনন্দিত। আর আমাদের মন্ত্রী যে কাজ করেছে আমরা তার এই অবদান কোনো দিন ভুলতে পারবো না। মন্ত্রীকে আমি মন থেকে নিজের মেয়ের স্থান দিয়েছি।

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন মন্ত্রী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভর্তির টাকার জোগাড় হয়েছে, কিন্তু লেখাপড়ার জন্য এখনো অনেক অর্থের প্রয়োজন। এর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।