বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ১৬.৬৮% এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬% বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়- গণশুনানিতে আমরা তথ্য-উপাত্তসহ স্পষ্টভাবে দেখিয়েছি যে দেশের শিল্পখাত বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতা রাখে না। তাছাড়া বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শুধু উৎপাদন ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং দেশের শিল্পখাতের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় থেকে শিল্পখাত এক দীর্ঘস্থায়ী কস্ট-ক্রাইসিসে রয়েছে-উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, চলতি মূলধনের অভাব, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যয় বৃদ্ধি, নির্মাণ খাতের মন্দা, গত কয়েক বছর যাবত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা একত্রে শিল্পের আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন লাভ নয়, বরং লোকসান বহন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এরই মধ্যে গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ৩৬%, ডিমান্ড চার্জ ১২৫% এবং গ্যাসের মূল্য কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ৩ মে এক্সট্রা হাইপার টেনশন-ইএইচটি-১ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অফ-পিক ট্যারিফ ৯.৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৩৯ টাকা (১৮.৫২%) এবং পিক ট্যারিফ ১৩.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৮২ টাকা (১৭.৬২%) করা হয়েছে। ফলে শিল্পখাতে বিদ্যুতের মোট ব্যয় কাঠামো বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়- স্টিল শিল্পের বড় কারখানাগুলো ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি এক্সট্রা হাইপার টেনশন(ইএইচটি) লাইনের সরাসরি গ্রাহক। আমরা নিজস্ব সাবস্টেশনে বিনিয়োগ করেছি এবং কার্যত কোনো সিস্টেম বা ট্রান্সমিশন লস নেই। তবুও ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ব্যয়ে প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শুধু উৎপাদন ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং দেশের শিল্পখাতের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একইসাথে শিল্প উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বিদ্যুৎ ট্যারিফ কাঠামোতে তার প্রতিফলন নেই, যা একমুখী মূল্যনীতি নির্দেশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়- বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল করবে। ফলে কর্মসংস্থান ও শিল্প স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং সরকারের রাজস্ব কমবে।
বিএসএমএ মনে করে, বিদ্যুৎ মূল্য কাঠামো এখন শুধুমাত্র ট্যারিফ ইস্যু নয়-এটি শিল্প টিকে থাকার মৌলিক প্রশ্ন। শিল্পকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে অর্থনীতি টেকসই করা সম্ভব নয়। শিল্প দুর্বল হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না-এটাই বর্তমান বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের উদীয়মান স্টিল ও রি-রোলিং শিল্প বাঁচানোর স্বার্থে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার প্রত্যাহারের জন্য বিএসএমএ সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে।



