ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, বরখাস্ত ২ কর্মকর্তা

অধিদফতরের ২৫ আগস্টের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত একটি কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুত যাচাই করে। খাতাপত্রের হিসাবের সাথে গুদামের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখার সময় এসব গড়মিল ধরা পড়ে।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের ঘিওরে খাদ্যগুদামে মজুত যাচাইয়ে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়া গেছে। একই সাথে ৪১ টন ধান বেশি এবং ছয় হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া গেছে। এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের হিসাবের সাথে বাস্তব মজুতের গরমিল ধরা পড়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অধিদফতরের ২৫ আগস্টের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত একটি কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুত যাচাই করে। খাতাপত্রের হিসাবের সাথে গুদামের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখার সময় এসব গড়মিল ধরা পড়ে।

কমিটির যাচাইয়ে গুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হিসাবের তুলনায় ছয় হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতিও পাওয়া যায়।

মজুত যাচাইয়ের পর কমিটি বিষয়টি খাদ্য অধিদফতরের প্রশাসন বিভাগকে জানায়। এরপর অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

খাদ্য অধিদফতরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।

জেলা খাদ্যগুদামগুলোর মজুতের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘিওরে যায়। দলটি গুদামের নথিপত্রের হিসাবের সাথে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখে। অডিট চলমান থাকায় গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে মজুত ঠিক থাকার তথ্য দেয়া হলেও কীভাবে গুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি তৈরি হলো। বিশেষ করে ১৫ আগস্টের পাক্ষিক প্রতিবেদনে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও ২৫ আগস্টের পর সরেজমিন যাচাইয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।

মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আইয়ুব রায়হান বলেন, ‘মহাপরিচালক স্যারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অডিটের সময় ঘিওরের খাদ্যগুদামে গরমিল পাওয়া যায়। এর সাথে যারা জড়িত থাকতে পারেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্যগুদামটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট আমার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।’

ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

খাদ্যগুদামে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি কীভাবে হলো, পাক্ষিক প্রতিবেদনে কেনো তা উঠে আসেনি এবং এর সাথে আর কেউ জড়িত কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখন বিভাগীয় তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।