দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পায়ের রগ কেটে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে (৩৪) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর রহমান সেতাবগঞ্জ পৌর এলাকার মরহুম ডা: নিয়াজ উদ্দিনের ছেলে এবং ডিএন অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান তার বোচাগঞ্জের বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বোচাগঞ্জের নিজ বাড়িতে এক হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পায়ের রক কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় মোস্তাফিজুরকে প্রথমে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হয়।
তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারের সাথে ডিভোর্স হয়ে গেলেও তিনি মাঝে মধ্যেই তার সাবেক স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে দেখা করতে আসতেন।
পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান ও বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মিজানুর রহমান।
দিনাজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে তার সাবেক স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও সম্পর্কের অবনতি ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে দিনাজপুর কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের সাবেক স্ত্রী শিল্পী আহত সাবেক স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথেই জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে অবস্থান করছিলেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের নির্দেশনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে পুলিশ হেফাজতে এনে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। সে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।



