নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মাদক কারবারি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুই মাদক কারবারি।
শনিবার বিকেলে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে মাদকবিরোধী সভায় এ মুচলেকা দেন তারা।
মাদক কারবারি ছাড়ার ঘোষণা দেয়া ব্যক্তিরা হলেন—বুরুমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে মাছুম ভূঁইয়া ও মজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান পিয়ার।
জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে সম্প্রতি মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। এতে করে উঠতি বয়সের যুবকরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে ওই এলাকায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে যুবকরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মুজাহিদ মল্লিক মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করেন। সেখানে ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মাছুম ভূঁইয়া ও হাবিবুর রহমান পিয়ারকে উপস্থিত করা হয়। সেখানে তাদের বিষয়ে প্রায় দু ঘণ্টা আলোচনা করা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে মাদক কারবারি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
মাদকবিরোধী সভায় জামপুর ইউনিয়ন ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইয়ামিন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আসন্ন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আল মুজাহিদ মল্লিক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: গিয়াসউদ্দিন, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভূঁইয়া, সোনারগাঁও উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমির হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ফজলুল হক, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, ইব্রাহিম মিয়া, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য আলামিন মিয়া প্রমুখ।
মাদক কারবারি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণার পর মাছুম ভূঁইয়া বলেন, এক সময় তিনি ভুল করেছেন। এ ভুল আর তিনি করবেন না। সমাজকে ভালো রাখার জন্য তিনি এ ব্যবসা ছেড়ে দিলেন। ভবিষ্যতে মাদক কারবারি করার মনমানসিকতা তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে ধরা দেবেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, বুরুমদী গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামে সোনারগাঁওয়ের সবচেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত মানুষ রয়েছেন। এ গ্রামকে মাদকের ছোবলে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। আমাদের সকলের চেষ্টায় দুজনকে মাদক ব্যবসা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। আশা করি এ গ্রামে মাদক কারবারি ও মাদকসেবী থাকবে না। এ গ্রামে মাদক প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো: গোলাম সারোয়ার বলেন, মুচলেকা দিয়ে মাদক কারবারি ছাড়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এ বিষয়ে তাদের প্রতি পুলিশের নজরদারি বাড়িয়ে তাদের এ পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে।



