রাজশাহীতে নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীর ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহীতে নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ
রাজশাহীতে নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীর ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মোসা: শিলা খাতুন (৩৮)।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি রোববার মতিহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে শিলা খাতুন জানান, এলাকার একটি রাস্তা সংস্কারের অংশ হিসেবে খোয়ার সুরকি দেয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সাথে তাদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ২০ জুন সকালে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

তার দাবি, ওইদিন সকাল ৯টার দিকে বাজে কাজলা এলাকায় মো: খাজদার আলীর বাড়ির সামনে তার ভাগনে মো: বাপ্পীকে মারধর করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে পারভেজ আলী স্বপন, তার ভাই রিপন আলী, ছেলে শাহি এবং আরো কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বাপ্পী গুরুতর আহত হলে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

শিলা খাতুন বলেন, ঘটনার পর তিনি কর্মস্থলে চলে গেলে অভিযুক্তরা তার অনুপস্থিতির সুযোগ নেয়। একই দিন দুপুরে তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় লোহার রড, জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হামলার সুযোগে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের ব্রেসলেট, ব্যক্তিগত ব্যাগ এবং ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

শিলা খাতুন জানান, আহত অবস্থায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, অভিযুক্তরা পুনরায় অজ্ঞাতনামা লোকজনকে সাথে নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

অভিযোগে সেফালী বেগম ও ঝরনা বেগমসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার ঘটনাটি এলাকাবাসীর সামনেই ঘটেছে এবং অনেকেই তা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এ বিষয়ে মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিলা খাতুন বলেন, ‘আমি একজন অসহায় নারী। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পারভেজ আলী স্বপন বলেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে তখন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ছিলাম। আমরা কারো গায়ে হাত তুলিনি বরং তারা আমার ভাইকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করতে চাই বলে জানান তিনি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, শুধু শিলা খাতুন নয়, তার প্রতিপক্ষও একটি অভিযোগ করেছেন। আমরা দুটো অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যিনি দোষী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।