১ জুলাই তিস্তা অববাহিকায় মশাল প্রজ্জ্বলন ও গণঅবস্থান

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি

চীন, ভারত বা আমেরিকার কাছে ভিক্ষার টাকায় নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঞ্চয়পত্রের মতো ‘তিস্তা বন্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তিস্তা অববাহিকার রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur Sadar
নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি
নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি |নয়া দিগন্ত

চীন, ভারত বা আমেরিকার কাছে ভিক্ষার টাকায় নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঞ্চয়পত্রের মতো ‘তিস্তা বন্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তিস্তা অববাহিকার রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। একই সাথে সরকারের কাছে তাদের প্রশ্ন— নিজস্ব টাকায় পদ্মা হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নয় কেন?

শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন’ শীর্ষক তিস্তা সংহতি সভায় অংশ নিয়ে তারা একথা বলেন।

‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সংহতি সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।

বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, জেলা এনসিপি আহ্বায়ক আল মামুন, গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি, হাতীবান্ধার ডাউবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু, রিহ্যাব সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান, সামাজিক সংগঠন ‘বাংলার চোখ’-এর প্রতিষ্ঠাতা তানবীর হোসেন আশরাফি, আইনজীবী মাহে আলম, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অশোক সরকার, কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ আলী, জাসাস নেতা এস এম রাসেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান। মূলপত্র পাঠ করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির। সংহতি সভাটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য আলমগীর কবির।

এসময় বক্তারা বলেন, সব সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ এর সাথে কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।

সরকারকে সঞ্চয়পত্রের আদলে তিস্তা বন্ড চালুর দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘চীন, ভারত বা আমেরিকার ভিক্ষা নয়; নিজস্ব টাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু হলে কেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবে না? সঞ্চয়পত্রের মতো বন্ড ছাড়ুন, তিস্তাপাড়ের মানুষ সেই বন্ড কিনবে।’

এছাড়াও সংবিধানের আলোকে উন্নয়নে বৈষম্য দূর করতে আসন্ন বাজেটে তিস্তা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখাসহ ৬ দফা দাবি জানান বক্তারা।

এসময় ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে জুন মাস জুড়ে পুরো তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলার ১২ উপজেলায় উঠান বৈঠক, পথসভা, হাটসভা, লিফলেট বিতরণ, গণসমাবেশসহ ১ জুলাই ৫ জেলায় একযোগে মশাল প্রজ্বলন ও গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।