নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।
এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।
বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।
ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’



