রংপুরে মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন : হুমকিতে সেতু ও সড়ক

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙ্গন ধরেছে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে। রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৩০ মিটার অংশ ভেঙে যায়।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ
ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ |নয়া দিগন্ত

ভয়াবহ ভাঙ্গন ধরেছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সেতুসহ রংপুর-কাকিনা সড়ক।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙ্গন ধরেছে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে। রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৩০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মহিপুর সেতু ও কাকিনাগামী সড়ক।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছিল সেতুটি। সেসময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে কোনোমতো রক্ষার চেষ্টা করে এলজিইডি। কিন্তু এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে আবারো পানির স্রোতের তাণ্ডবে ভাংছে বাঁধটি।

স্থানীয় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘গত বছর যখন সেতু রক্ষা বাঁধটি ভাঙ্গন ধরে তখন আমরা এলজিইডিকে বলেছিলাম ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে। কিন্তু তখন তারা সেটা শোনেননি। ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারো ধরলো ভাঙ্গন। ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। তারা শুধু সরকারি অর্থ নয়ছয়ের কারণেই এই পরিণতি।’

তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো: ওবায়দুর রহমান জানান, ‘গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেকারণে সেটা করা হয়েছিল। আবারো ভাঙ্গন ধরায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেটা জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ‘এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’