চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত এবং ২৯৮ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম শনিবার (১১ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ছয় মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। গত ২১ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে যায়। এ দুর্ঘটনায় প্রথমে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার এলাকায় দায়িত্বে থাকা রেলের দুই গেটম্যান হেলাল ও মেহেদীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের দাবি, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট নির্ধারিত সময়ে বন্ধ করতে পারেননি দায়িত্বরত গেটম্যানরা। এতেই ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা।
এছাড়া গত ১৪ এপ্রিল ভোররাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপর থাকা শ্রমিকরা নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন শ্রমিক নিহত হন।
অন্যদিকে গত ৬ জুন সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছুফুয়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রিকশাসহ ৪ হাজার ৪২০টি থ্রি-হুইলার আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচলকারী ২ হাজার ১২১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ৮৭ ধারায় প্রসিকিউশন দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন ১৮ হাজার ৩১৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি চালক, যাত্রী ও পথচারী সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।" তিনি চালকদের অতিরিক্ত গতি পরিহার, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা কমাতে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



