দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাবাস শেষে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক প্রবাসী পরিবারের সন্তান জাকির হোসেন পলাশ।
বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি থাকার পর শুক্রবার (১৯ জুন) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি।
নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পলাশ। কারাগারে কাটানো দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার বেদনাভরা অভিজ্ঞতা শুনে উপস্থিত অনেকেই অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
কারাগারে বন্দি থাকাকালীন সময়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলো বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। হারিয়েছেন নিজের বাবা ও একমাত্র সন্তানকে। মাদরাসায় অধ্যয়নরত সেই সন্তান ও বাবার জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগও পাননি পলাশ। দীর্ঘ কারাবাসের অনিশ্চয়তার মধ্যে ভেঙে যায় তার সংসারও। স্ত্রী তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এতসব হারানোর বেদনা নিয়ে মুক্তি পেলেও এখনো বেঁচে আছেন তার মা। যাকে ঘিরেই এখন তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। নিঃস্বতার মাঝেও পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা হয়েছে।
পলাশের বড় ভাই আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আমার ছোট ভাই জাকির হোসেন পলাশ আজ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। সে আবার আমাদের মাঝে ফিরেছে। তার সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’
দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তি পেলেও পলাশের জীবনে রয়ে গেছে অপূরণীয় শূন্যতা— যা সময়ের স্রোতেও হয়তো কখনো পূরণ হওয়ার নয়।



