দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে বিপুল অঙ্কের ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারী খানম ও তার স্বামী অধ্যাপক আবু সাঈদ শফিরের বিরুদ্ধে।
অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালে মহসিন আলীকে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা নেয়া হয়। একই পদে নিয়োগের জন্য আরেক প্রার্থীর কাছ থেকেও আড়াই লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গত বছরের ১৮ আগস্ট মহসিন আলীকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং তিনি চাকরিতে যোগদান করেন।
এদিকে গত ২৭ আগস্ট বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী পদে কাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে জানতে পারেন, মহসিন আলী নামের একজনকে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদের দাবি, নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্রে সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে তিনি কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি ওই পদে কোনো নিয়োগ দেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু বলেন, ‘আমি কোনো নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম না। আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে দেবীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আখতারী খানম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য হয়নি। সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এখন অস্বীকার করছেন।
প্রধান শিক্ষকের স্বামী অধ্যাপক আবু সাঈদ শফিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
দুর্গাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আখতার জাহান বলেন, ‘কর্মচারী নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারীকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



