ভূরুঙ্গামারীতে ৪২ বস্তা সার আটক, জরিমানা ১ লাখ টাকা

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

Location :

Kurigram
ভ্রাম্যমাণ আদালত
ভ্রাম্যমাণ আদালত |নয়া দিগন্ত

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে ৪২ বস্তা সার মজুদ রাখার অভিযোগে দুইজনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়। এ সময় ৩১ বস্তা ইউরিয়া ও ১১ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। বিপুলসংখ্যক সারের বস্তা ডিলারের গুদাম থেকে কিভাবে দুই ব্যক্তির বাড়িতে গেল তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, ইসলামপুর এলাকায় অবৈধভাবে সার মজুদ করা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় ইসলামপুর এলাকার বেলাল মিয়ার বাড়ি থেকে ২৭ বস্তা ইউরিয়া ও আট বস্তা ডিএপি এবং মানিক মিয়ার বাড়ি থেকে চার বস্তা ইউরিয়া ও তিন বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। সারগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইনে বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়া উভয়কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

কৃষকদের অভিযোগ, কতিপয় অসাধু সার ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। লোভে পরে অনেকে অবৈধভাবে সার মজুদ করছেন। এসব ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী জেল ও জরিমানা উভয় শাস্তি প্রদান করা হলে অবৈধভাবে সার মজুদের প্রবণতা কমবে। এতে কৃষকরা সহজে সার পাবে। তারা আরো বলেন, এতোগুলো সারের বস্তা কিভাবে ডিলারের গুদাম থেকে দুইজনের বাড়িতে গেল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর সাথে যারা জড়িত সকলকে আইনের আওতা আনা হোক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক বলেন, ‘বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়া লাইসেন্স বিহীন অবৈধ সার মজুদ করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দুইজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কেউ যাতে ফায়দা লুটতে না পারে সে দিকে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে।’

অভিযানকালে উপজেলা কৃষি দফতরের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও থানার পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।