ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আলমডাঙ্গায় আটক ৩

এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Chuadanga

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, রশি, ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার নওদা বন্ডবিল কবরস্থানের পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মাদক, চোরাচালান ও ডাকাতি প্রতিরোধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে আলমডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শোভন কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে একটি দল রাতে টহল দিচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নওদা বন্ডবিল কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে কয়েকজন ব্যক্তি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে সুজন আলী ওরফে সুজন শেখ (৩৫), কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ গ্রামের মৃত জামাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৫) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর বোয়ালদহ গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিন সর্দারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনা (৫২)।

তাদের কাছ থেকে দুটি চাইনিজ কুড়াল, একটি লোহার হাসুয়া, নাইলনের রশি, একটি সিমেন্টের বস্তা এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করে মামলার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এ ঘটনায় আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরো চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়ক ও নির্জন এলাকাগুলোতে পুলিশের বিশেষ টহল বৃদ্ধির মধ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অপরাধ সংঘটনের আগেই এমন অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।