চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের ঘটনায় বিদ্যুৎ দাস নামে শ্মশানের এক পাহাড়াদার সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার কাছে গ্রেফতারের আগে আশ্রয় নিয়েছিল হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া মুগ্ধ দাস।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মামুনুর রশিদ ফয়সালের কাছে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
কোর্ট ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বুধবার বিকেলে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানের পাহাড়াদার বিদ্যুৎ দাসকে আদালতে তোলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলী। পরে বিদ্যুৎ দাস সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলী বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে গ্রেফতারের আগে মুগ্ধ দাস আশ্রয় নিয়েছিলেন দখিগঞ্জ শ্মশানে অবস্থিত পাহাড়াদার বিদ্যুতের রুমে। সেখানে আশ্রয় নেয়ার সময় বিদ্যুৎ দাসকে মুগ্ধ দাস বলেছিল, দাদা আমাকে আশ্রয় দাও। পুলিশ আমাকে ঘিরে ফেলেছে। আমি তো খুন করেছি।
তিনি আরো বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে তাকে আমরা প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে পুরো ঘটনাটি বিদ্যুৎ দাস আদালতের বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় আর কী বলেছে, সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তার এই স্বীকারোক্তি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম এভিডেন্স (প্রমাণ)।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের বন্ধু সীমান্ত দাস সাক্ষী হিসেবে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলী জানান, ঘটনার রাতে সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। সেই বিষয়টিও সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সীমান্ত।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে রংপুর মহানগরির মাছখোয়া পাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স পাস করা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম। পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার পর তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দু’জনকে সোমবার (২৩ আগস্ট) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সেদিন রাতেই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।



