পাকুন্দিয়ায় খসে পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের প্লাস্টার, পাঠদান ব্যাহত

বিদ্যালয়ের একমাত্র পুরোনো ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছিল পাঠদান। তবে এবার ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা দেখতে পান ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে।

মুহিব্বুল্লাহ বচ্চন, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Pakundia
পাকুন্দিয়ায় খসে পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের প্লাস্টার, পাঠদান ব্যাহত
পাকুন্দিয়ায় খসে পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের প্লাস্টার, পাঠদান ব্যাহত |নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় ভবনটির একাধিক কক্ষে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রোববার (৭ জুন) উপজেলার দক্ষিণ মাইজহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ের একমাত্র পুরোনো ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছিল পাঠদান। তবে এবার ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা দেখতে পান ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। এ সময় ভবনের এ দুরবস্থা দেখে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বাড়ি ফিরে যায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে একটি মাত্র ভবন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর শিক্ষকরা বারান্দা ও মাঠের বাইরে অবস্থান করছেন। ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। বিদ্যালয় ভবন ধসের খবর পেয়ে অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে এসেছেন। অনেকেই তাদের সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে এ বিদ্যালয়টির একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০৯ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়টির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানোও হয়েছে। সর্বশেষ ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে দেখেন, অফিস কক্ষসহ একাধিক শ্রেণিকক্ষের ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা জানায়, আমার এ স্কুলে পড়তে অনেক ভয় হয়। সব সময় শ্রেণিকক্ষ নিয়ে আতঙ্কে থাকি। আজকে স্কুলে এসে দেখি ছাদ ধসে পড়েছে। এখন আমার বাবা-মা আমাকে আর এ ভবনে ক্লাস করতে দিচ্ছে না, তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।

দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসুদা আক্তার বলেন, স্কুলের এ অবস্থা দেখে মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জীবনের ঝুঁকির মধ্যে তো সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পারি না।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে যদি এ ছাদ ধসের ঘটনা ঘটত, তাহলে বহু শিক্ষার্থী হতাহত হতে পারত। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন, ছুটি থাকার কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা: সুরাইয়া বিলকিস বলেন, আমরা সবসময় আতঙ্কে ক্লাস নিতাম। ঈদের ছুটি শেষে আজ এসে দেখি এ অবস্থা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।